পাল রাজবংশর (আনুমানিক ১০৭০ খ্রিষ্টাব্দে)।
পাল রাজবংশের পতনের পর একাদশ শতাব্দীর শেষভাগে (আনুমানিক ১০৭০ খ্রিষ্টাব্দে) সামন্ত সেন সূচনা করেএবং বিজয় সেন হাত ধরে বাংলায় সেন রাজবংশের সূচনা হয়। দ্বাদশ শতাব্দীতে (বিশেষ করে বিজয় সেন এবং বল্লাল সেনের রাজত্বকালে) সেন সাম্রাজ্য তার ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছায়।
নিচে সেন বংশের শাসনামলের মানচিত্রের ভৌগোলিক বিস্তার এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানা (সর্বোচ্চ বিস্তার)
পাল রাজাদের মতো সেনদের প্রভাব উত্তর ভারতের কানৌজ বা পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত না হলেও, সমগ্র বাংলা অঞ্চলকে একটি একক শাসনের অধীনে আনার কৃতিত্ব সেন রাজাদের।
মূল ভূখণ্ড (Core Territory): বর্তমান সমগ্র বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা ছিল সেনদের সরাসরি শাসনাধীন।
পশ্চিম সীমা: সেন সাম্রাজ্যের সীমানা বিহারের একাংশ (মিথিলা বা উত্তর বিহার) এবং ওড়িশার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাজা বিজয় সেন নব্য-প্রতিষ্ঠিত পাল শাসক এবং পুণ্ড্রের সুরপালকে পরাজিত করে এই অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন।
পূর্ব ও উত্তর সীমা: উত্তর-পূর্ব দিকে আসামের (কামরূপ) কিছু অংশ সেনদের করদ রাজ্য1 ছিল। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত তাদের নৌ-সীমা বিস্তৃত ছিল।
২. মানচিত্রের প্রধান প্রধান অঞ্চল ও রাজধানী
সেন রাজারা প্রশাসনিক ও কৌশলগত কারণে একাধিক রাজধানী ও রাজনৈতিক কেন্দ্র ব্যবহার করতেন। মানচিত্রে লক্ষ্যণীয় প্রধান শহরগুলো হলো:
| অঞ্চলের নাম | ঐতিহাসিক গুরুত্ব / পরিচিতি | বর্তমান অবস্থান |
| বিক্রমপুর | সেন রাজাদের প্রধান এবং স্থায়ী রাজধানী (মূল কেন্দ্র) | মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ |
| বিজয়পুর | রাজা বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র | হুগলি / নদীয়া অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ |
| লক্ষণাবতী (গৌড়) | রাজা লক্ষণ সেনের নামানুসারে তৈরি দ্বিতীয় প্রধান রাজধানী | মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ |
| নবদ্বীপ (নদীয়ার অংশ) | লক্ষণ সেনের শেষ জীবনের অস্থায়ী রাজনৈতিক কেন্দ্র | নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ |
৩. মানচিত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পতন
১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী আকস্মিকভাবে নদীয়া আক্রমণ করলে রাজা লক্ষণ সেন রাজধানী ছেড়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে চলে আসেন। এর ফলে মানচিত্রের পশ্চিম ও উত্তর অংশ মুসলিম শাসনের অধীনে চলে যায় এবং পূর্ববঙ্গে (বিক্রমপুরে) আরও কিছুকাল সেন শাসন টিকে ছিল।
- ফুট নোট
↩︎